কেন আমাদের নিয়মিত বই পড়া উচিত?
Books
কেন আমাদের নিয়মিত বই পড়া উচিত?
April 2, 2024, 8:46 a.m.
4
Metheela Farzana Melody

বর্তমানে মোবাইল ফোন কিংবা ট্যাব এর যুগে “বই পড়া” -র মতো অভ্যাস আছে এমন মানুষ দিনকে দিন কমেই চলেছে। আগে একটা সময় আমরা যারা হাইস্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম, আমাদের একটা অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিলো “ বই পড়া”। কখনো হয়তোবা এই নিয়ে প্রতিযোগিতাও হতো। আবার পড়ার ফাঁকে টেক্সট বুকের মাঝে গল্পের বই/ উপন্যাস লুকিয়ে পড়া ছিল নিত্যদিনকার অভ্যাস। তারপর আস্তে আস্তে বই পড়ার অভ্যাসটাও সংকুচিত হলো।

আমরা যদি একটূ বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের কথাই ধরি, বিল গেটস যেমন একটি ইন্টারভিউয়ে তার প্রতিদিনকার রুটিন জিজ্ঞাসা করায় তার বই পড়ার অভ্যাসের কথা বলেছিলেন,

“I try to read every day, whether I have a busy day at the office or am out for a hike, It’s one of my favorite ways to learn new things and better understand the world. You don’t really start getting old until you stop learning, Every book teaches me something new or helps me see things differently. I was lucky to have parents who encouraged me to read. Reading fuels a sense of curiosity about the world, which I think helped drive me forward in my career and in the work that I do now with my foundation.”

আবার Warren Buffett ছিলেন সেই কাতারে। তিনি ফলো করেন Go to bed a little smarter each day. এই ফর্মুলার নাম তিনি দিয়েছেন Buffett Formula. তিনি বিশ্বাস করেন ব্যবসায় ভালো করার সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হলো আমাদের জ্ঞান ও বুদ্ধি। তার বই পড়ার দক্ষতাও ব্যাপক প্রশংসিত, এমনও হয়েছে যে তিনি দিনের প্রায় ৮০ শতাংশ সময় ব্যয় করে ফেলেছেন শুধুমাত্র বই পড়ায়। এরকম আরও অসংখ্য উদাহরণ দেওয়া যাবে। তবুও আমাদের বই পড়ায় দিনকে দিন অনীহা আসছে কেন? বই পড়ার ফলে যে কত উপকার হয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখানে আলোচনা করছি বই পড়ার ফলে আমাদের যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি উপকার হয় তা নিয়ে।

১। ব্রেনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিঃ বই পড়লে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি মস্তিষ্ক সচল রাখতেও সহায়তা করে। গবেষকরা ধারণা করেন ডিমেনশিয়া বা আলঝেইমারের মত স্মৃতি ভুলানো রোগের প্রক্রিয়া ধীর করে। আবার বই পড়ার ফলে মস্তিষ্কেরও ব্যায়াম হয়।
২। শব্দভান্ডারের উন্নতিঃ নিয়মিত বই পড়লে নতুন নতুন শব্দ জানা হয়। এতে শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হয়। এতে ভাষার উপর আলাদা দক্ষতা বাড়ে। সহযে সুন্দর ভাষায় কথা বলতে লিখতে পারা যায়। আবার বিভিন্ন ভাষার বই পড়ার সময় সেই ভাষা সম্পর্কে হালকা পাতলা ধারণা হয়ে যায়।
৩। মানসিক শান্তি বৃদ্ধিঃ আমার ছোটবেলায় আমার যখন মন খারাপ থাকতো তখন একটা অভ্যাস ছিলো, আর তা হলো দরজা বন্ধ করে এক ধ্যানে বই পড়া। এটা মোটামুটি সেই সময়ে সকল স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অভ্যাস ছিলো। বই পড়ার সময় মনটা একদম শান্ত হয়ে যায়, তখন আমাদের ধ্যান জ্ঞান থাকে শুধু বই আর তার ক্যারেক্টার ঘিরে। তাই মানসিক প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম হলো বই পড়া।
৪। দিকনির্দেশনায়ঃ অনেকসময় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে যেমনঃ আর্থিক দিক থেকে কিংবা দূরদেশ হওয়ায় বা সুযোগের অভাবে আমরা আমাদের ক্যারিয়ার বা শিক্ষা নিয়ে কাংক্ষিত গাইডলাইন পাই না, বা অনেককিছুই অজানা থাকে। সেক্ষেত্রে অন্যতম সহায়ক হলো বই। বই পড়ে আমাদের জানার চাহিদার অনেকখানিই পূর্ণ করা সম্ভব।
৫। সৃজনশীল চিন্তার বৃদ্ধিঃ বই পড়া যেমন আমাদের শব্দভান্ডার এর উন্নতি সাধন করে, তেমনি আমাদের সৃজনশীল চিন্তা চেতনা বাড়াতেও সহায়ক। এর এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো রহস্যের বই পড়ার সময় আমাদের নিজে থেকে রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা। বই পড়ার ফলে যে শুধু আমরা শুধু কিছু গল্পই পড়ছি তা কিন্তু নয়, বরং আমরা সেই ক্যারেক্টার গুলো নিজে থেকে বিশ্লেষণ করছি। এতে করে আমাদের Analyzing thinking এর ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৬। মনোযোগ বৃদ্ধিঃ বই একবার পড়তে বসলে যেন আর বই ছেড়ে উঠতে মন চায় না। এভাবে বই আমাদেরকে মনোযোগী হতে সাহায্য করে। আবার বই পড়ার সময় ব্রেন দ্রুত নিজে থেকে চিন্তা করতে শুরু করে, এতে চিন্তনশক্তির বৃদ্ধি হয়।
৭। লেখনীতে উন্নতিঃ সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা কঠিন না হলেও খুব সহজ কাজ নয়, এখানে সুন্দর ভাষার দরকার হয়, বাকু গুছিয়ে প্রকাশ করার প্রয়োজনীয়তা পড়ে, ভাষার সাবলীলতা রক্ষা করতে হয়। প্রচুর বই পড়লে লেখালেখি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

এত কিছুর পরেও বই পড়ার আরও অনেক অনেক উপকারিতা রয়েই যায়। সে যাই হোক, এই ব্লগ শেষ করতে চাই একটি বিখ্যাত উক্তি দিয়ে, বলতে হবে আসলে এই উক্তি দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে।

“If we encounter a man of rare intellect, we should ask him what books he reads.”
-Ralph Waldo Emerson